ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট বর্তমানে বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফ্লোরিং সলিউশন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যাক্টরি, গুদামঘর, গ্যারেজ, হাসপাতাল, শপিং মল থেকে শুরু করে আধুনিক বাসাবাড়িতেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। টেকসই, আকর্ষণীয়, কেমিক্যাল-রেজিস্ট্যান্ট এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট এখন অনেকের প্রথম পছন্দ।

এই আপডেটেড গাইডে আমরা ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত টেকনিক্যাল তথ্য, প্রকারভেদ, ইনস্টলেশন প্রসেস, সম্ভাব্য সমস্যা, খরচ বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত FAQ আলোচনা করবো।

Contents

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট কী?

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট একটি উচ্চমানের কোটিং সিস্টেম যা দুইটি উপাদান দিয়ে তৈরি:

  • Epoxy Resin

  • Hardener (Curing Agent)

এই দুই উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশানোর পর কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে শক্ত ও টেকসই পলিমার স্তর তৈরি করে। এটি কংক্রিট ফ্লোরের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং শুকানোর পর একটি সিমলেস (joint-free) শক্ত আবরণ তৈরি করে।

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্টের টেকনিক্যাল বৈশিষ্ট্য

১. কম্প্রেসিভ স্ট্রেন্থ

ইপোক্সি ফ্লোর অত্যন্ত শক্ত, ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের চাপ সহ্য করতে পারে।

২. অ্যাডহিশন ক্ষমতা

কংক্রিটের সাথে শক্তভাবে লেগে থাকে, ফলে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

৩. থিকনেস অপশন

  • 1mm (লাইট ডিউটি)

  • 2mm (মিডিয়াম ডিউটি)

  • 3mm+ (হেভি ডিউটি/ইন্ডাস্ট্রিয়াল)

৪. হিট রেজিস্ট্যান্স

সাধারণত ৬০–১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সহ্য করতে পারে (গ্রেড অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে)।

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্টের অতিরিক্ত সুবিধা

✔ ডাস্ট-ফ্রি সারফেস

কংক্রিট ফ্লোরে সাধারণত ধুলা তৈরি হয়। ইপোক্সি কোটিং ধুলা আটকায়।

✔ সিমলেস ফিনিশ

কোনো জয়েন্ট বা ফাঁক নেই, ফলে ব্যাকটেরিয়া জমে না।

✔ লাইট রিফ্লেকশন

গ্লসি ফিনিশ আলো প্রতিফলিত করে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

✔ কাস্টমাইজড ডিজাইন

  • 3D Epoxy

  • Metallic Finish

  • Flake System

  • Anti-static Flooring

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্টের উন্নত প্রকারভেদ

১. Self-Leveling Epoxy

নিজে নিজে সমান হয়ে যায়, মসৃণ ফিনিশ দেয়।

২. Epoxy Mortar Flooring

সবচেয়ে শক্তিশালী। হেভি ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়।

৩. Anti-Static Epoxy

ইলেকট্রনিক্স কারখানায় ব্যবহৃত হয়।

৪. Epoxy Flake System

ডেকোরেটিভ লুকের জন্য ব্যবহার হয়।

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট ইনস্টলেশনের সময় যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

১. আর্দ্রতা পরীক্ষা

Moisture Content বেশি হলে ইপোক্সি উঠে যেতে পারে।

২. তাপমাত্রা

সাধারণত ১০–৩৫°C তাপমাত্রায় কাজ করা ভালো।

৩. সঠিক মিক্সিং রেশিও

ভুল অনুপাতে মেশালে শক্ত হবে না।

৪. পট লাইফ

মেশানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়।

সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা ১: বুদবুদ উঠা

কারণ: আর্দ্রতা
সমাধান: সঠিক সারফেস প্রিপারেশন

সমস্যা ২: পিলিং বা উঠে যাওয়া

কারণ: সঠিক প্রাইমিং না করা
সমাধান: গ্রাইন্ডিং ও প্রাইমার ব্যবহার

সমস্যা ৩: হলদে হয়ে যাওয়া

কারণ: UV রশ্মি
সমাধান: UV-resistant টপ কোট ব্যবহার

বাংলাদেশে ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্টের আনুমানিক খরচ বিশ্লেষণ

ধরন প্রতি স্কয়ার ফিট মূল্য (প্রায়)
1mm ১৮০–২৫০ টাকা
2mm ২৫০–৩৫০ টাকা
3mm ৩৫০–৪৫০+ টাকা

দাম নির্ভর করে:

  • এলাকা

  • ডিজাইন

  • ব্র্যান্ড

  • শ্রম খরচ

ইপোক্সি ফ্লোর বনাম PU (Polyurethane) ফ্লোর

বিষয় Epoxy PU
কেমিক্যাল রেজিস্ট্যান্স বেশি মাঝারি
UV রেজিস্ট্যান্স কম বেশি
নমনীয়তা কম বেশি
মূল্য কম বেশি

রক্ষণাবেক্ষণের উন্নত টিপস

  • PH-neutral ক্লিনার ব্যবহার করুন

  • স্ক্র্যাচ এড়াতে রাবার চাকা ব্যবহার করুন

  • বছরে একবার পরিদর্শন করুন

  • ভারী যন্ত্রপাতির নিচে প্যাড ব্যবহার করুন

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট কি বাসার জন্য উপযুক্ত?

হ্যাঁ, বিশেষ করে:

  • গ্যারেজ

  • রান্নাঘর

  • বেজমেন্ট

  • বারান্দা

আধুনিক মিনিমালিস্ট ডিজাইনে এটি খুব জনপ্রিয়।

পরিবেশগত দিক

লো VOC (Volatile Organic Compound) ইপোক্সি ব্যবহার করলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে।

উপসংহার

ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট একটি আধুনিক, টেকসই ও কার্যকর ফ্লোরিং সমাধান। সঠিক সারফেস প্রস্তুতি, পেশাদার ইনস্টলেশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। শিল্প ও বাসাবাড়ি উভয় ক্ষেত্রেই এটি লাভজনক বিনিয়োগ।

Faqs about ইপোক্সি ফ্লোর পেইন্ট

ইপোক্সি ফ্লোর কতদিন টিকে?
সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে সাধারণত ৫–১০ বছর বা তার বেশি সময় টিকে থাকে, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে।

কোথায় ব্যবহার করা যায়?
গ্যারেজ, কারখানা, হাসপাতাল, শোরুম, গুদাম এবং বাসাবাড়ির ফ্লোরে ব্যবহার উপযোগী।

পানি বা কেমিক্যাল কি ক্ষতি করে?
না, এটি পানি, তেল ও অনেক ধরনের কেমিক্যাল প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

প্রয়োগের আগে কী প্রস্তুতি দরকার?
ফ্লোর পরিষ্কার, শুকনো ও সমতল থাকতে হবে; প্রয়োজনে গ্রাইন্ডিং বা প্রাইমার ব্যবহার করা হয়।

ইপোক্সি ফ্লোর শুকাতে কত সময় লাগে?
সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হালকা ব্যবহার করা যায়, তবে পূর্ণ শক্ত হতে ৩–৭ দিন সময় লাগে।

ইপোক্সি ফ্লোর কি পিচ্ছিল হয়?
গ্লসি ফিনিশে কিছুটা পিচ্ছিল হতে পারে, তবে অ্যান্টি-স্লিপ অ্যাডিটিভ ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে।

রঙ ও ডিজাইন কি কাস্টমাইজ করা যায়?
হ্যাঁ, বিভিন্ন রঙ, 3D ডিজাইন, ফ্লেক ফিনিশ ও ম্যাট/গ্লসি অপশন পাওয়া যায়।

পুরনো ফ্লোরের ওপর কি ইপোক্সি লাগানো যায়?
হ্যাঁ, তবে ফাটল মেরামত ও সঠিক সারফেস প্রস্তুতি জরুরি।

খরচ কিসের ওপর নির্ভর করে?
ফ্লোরের অবস্থা, বেধ, ডিজাইন, ব্র্যান্ড ও শ্রম খরচের ওপর দাম নির্ভর করে।

ইপোক্সি ফ্লোর কি স্বাস্থ্যসম্মত?
শুকানোর পর এটি নন-টক্সিক ও সহজে পরিষ্কারযোগ্য, তাই হাসপাতাল ও ফুড এরিয়ায় ব্যবহার হয়।

রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে করবেন?
নিয়মিত ঝাড়ু ও হালকা ক্লিনার দিয়ে মুছলেই যথেষ্ট; ভারী স্ক্র্যাচ এড়াতে সতর্ক থাকতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *